হাম কি ধরনের রোগ? লক্ষণ কি কি?

হাম (Measles) একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত শ্বাসতন্ত্রের রোগ। এটি সাধারণত 'মরবিলিভাইরাস' (Morbillivirus) নামক ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। বায়ুবাহিত হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই রোগ খুব দ্রুত অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।



নিচে হামের প্রধান লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হলো:

১. প্রাথমিক লক্ষণ (শুরুর ৩-৫ দিন):

হামের ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ১০-১২ দিন পর লক্ষণ দেখা দেয়। শুরুতে সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো মনে হতে পারে:

  • তীব্র জ্বর: শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যেতে পারে (১০৪°F বা তার বেশি)।

  • কাশি ও সর্দি: ক্রমাগত শুকনো কাশি এবং নাক দিয়ে পানি পড়া।

  • চোখ লাল হওয়া: চোখ লাল হয়ে যায় এবং পানি পড়ে (কনজাংটিভাইটিস)।

  • কপ্লিক স্পটস (Koplik's spots): মুখের ভেতরের গালে ছোট ছোট সাদাটে বা লালচে দাগ দেখা দিতে পারে।

২. প্রধান লক্ষণ: র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি

জ্বর শুরু হওয়ার ৩ থেকে ৫ দিন পর শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ দেখা দেয়:

  • এটি সাধারণত মুখমণ্ডল এবং কানের পেছন থেকে শুরু হয়।

  • ধীরে ধীরে তা ঘাড়, বুক, পিঠ এবং হাত-পায়ে ছড়িয়ে পড়ে।

  • র‍্যাশ ওঠার সময় জ্বর আরও বেড়ে যেতে পারে।

৩. অন্যান্য উপসর্গ:

  • প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা এবং ক্লান্তি।

  • খাবারে অরুচি।

  • শরীর ও পেশিতে ব্যথা।


প্রতিরোধ ও প্রতিকার:

  • টিকা: হাম প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো এমআর (MR) টিকা। আপনার স্কুলে বা এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি চললে শিশুদের এটি নিশ্চিত করা খুব জরুরি।

  • বিশ্রাম ও তরল খাবার: আক্রান্ত ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে এবং প্রচুর পানি ও পুষ্টিকর তরল খাবার খাওয়াতে হবে।

  • আলাদা রাখা: যেহেতু এটি ছোঁয়াচে, তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে কয়েকদিন আলাদা ঘরে রাখা ভালো যাতে পরিবারের অন্যদের (বিশেষ করে শিশুদের) না ছড়ায়।


Comments

Popular posts from this blog

কীভাবে বুঝবেন বাবা-মা হিসেবে আপনি চমৎকার করছেন,

বেতন সম্পদ নয়, এটা টিকে থাকার উপায়