প্রিজাইডিং অফিসার (Presiding Officer
একজন প্রিজাইডিং অফিসার (Presiding Officer) একটি ভোটকেন্দ্রের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ব্যক্তি। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে যাবতীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং স্বচ্ছ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা তার প্রধান দায়িত্ব।
নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী প্রিজাইডিং অফিসারের কাজগুলোকে মূলত ৩টি পর্যায়ে ভাগ করা যায়:
১. ভোটগ্রহণের আগের দিনের কাজ (প্রস্তুতি)
নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ: রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যালট বক্স, ব্যালট পেপার, সিল, কালি এবং ফরমসমূহ বুঝে নেওয়া।
কেন্দ্র পরিদর্শন: সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের নিয়ে ভোটকেন্দ্রের বুথ সাজানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নিরাপত্তা বাহিনী ও এজেন্টদের সাথে সমন্বয়: কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ বা আনসার বাহিনীর সাথে যোগাযোগ করা এবং প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের নিয়োগপত্র যাচাই করা।
২. ভোটগ্রহণের দিন (পরিচালনা)
ব্যালট বক্স প্রদর্শন: ভোট শুরু হওয়ার ঠিক আগে (যেমন সকাল ৮টা) উপস্থিত পোলিং এজেন্টদের সামনে ব্যালট বক্সটি খালি কি না তা দেখিয়ে সিলগালা করা।
নির্ধারিত সময়ে ভোট শুরু: সঠিক সময়ে ভোটগ্রহণ শুরু নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রের ভেতর ভোটারদের লাইনের শৃঙ্খলা দেখা।
শান্তি রক্ষা ও সিদ্ধান্ত প্রদান: যদি কোনো ভোটার বা এজেন্টের পরিচয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়, তবে প্রিজাইডিং অফিসার নির্বাচনী আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
আইনগত ক্ষমতা: কেন্দ্রের ভেতরে কোনো বিশৃঙ্খলা হলে বা কেউ ভোট গ্রহণে বাধা দিলে প্রিজাইডিং অফিসার পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে তাকে আটক করতে পারেন, এমনকি প্রয়োজন মনে করলে সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ স্থগিত করার ক্ষমতাও তার আছে।
৩. ভোটগ্রহণ শেষে (গণনা ও ফলাফল)
ভোট গণনা: পোলিং এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ব্যালট বক্স খুলে ভোট গণনা করা।
ফলাফল বিবরণী প্রস্তুত: প্রতিটি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের হিসাব সম্বলিত ফলাফল বিবরণী এবং 'ব্যালট পেপার হিসাব' (Ballot Paper Account) তৈরি করা।
ফলাফল ঘোষণা ও স্বাক্ষর: কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা এবং উপস্থিত পোলিং এজেন্টদের ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নেওয়া এবং তাদের কার্বন কপি দেওয়া।
সামগ্রী জমা: ব্যবহৃত ব্যালট পেপার, স্ট্যাম্প ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র আলাদা আলাদা খামে সিলগালা করে দ্রুত রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
প্রিজাইডিং অফিসারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৩টি টিপস:
১. ডায়েরি মেইনটেইন: সারাদিনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো (যেমন- কখন ভোট শুরু হলো, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটল কি না) ডায়েরিতে লিখে রাখুন। এটি পরে রিপোর্ট দিতে খুব কাজে লাগে।
২. নিরপেক্ষতা: আপনার আচরণে যেন কোনোভাবেই মনে না হয় যে আপনি কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে।
৩. দলগত সমন্বয়: আপনার সহকারী প্রিজাইডিং এবং পোলিং অফিসারদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন, যাতে চাপের মুখেও কাজ সহজ হয়।
Comments
Post a Comment